বেশ ক’বছর আগেকার কথা...। তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। সে সময় হঠাৎ কেমন করে আমি যেন আমার ঠাকুরমার প্রেমে পড়ে গেলাম। ঠাকুরমার বয়স তখন কম করে হলেও ৬২...। সে সময় ঠাকুমার দীঘল শাদা চুল সবসময় হৃদয়ে দোলা দিয়ে যেত! অনেক কুণ্ঠা উপেক্ষা করে বাবাকে আমার পছন্দের কথাটা জানালাম। বাবা শুনে সে কি রাগ। কথাটা কীভাবে যেন দাদুর কানেও গেল। দাদু রেগেমেগে বাবাকে ডেকে বললেন, ‘তোর ছেলেকে সামলা, ফের যদি আমার বউয়ের
আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখি তো ওর ঠেং খোঁড়া করে দেব।’ বাবা আমাকে অনেক বোঝালেন। কিন্তু আমার এক কথা... বিয়ে যদি করতেই হয় তো ঠাকুরমাকেই করবো, ঠাকুরমাকে না পেলে এ জীবন আমি রাখবো না। বাবা অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন, ‘দুনিয়াতে এত মেয়ে থাকতে আমার মায়ের প্রেমে পোরতে গেলি কেনরে হতভাগা, কি দেখলি ওই বুড়িটার মধ্যে?’ আমি বললাম,
যখনি ঠাকুরমার মুখের পানে চাই বুকের মাঝে সুখের মত ব্যাথা বোধ হয়! ওদিকে দাদু আবার বাবাকে হুমকি দিয়ে বসলেন-আমি যদি শুধরে না যাই তাহলে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি থেকে বাবাকে বঞ্চিত করবেন! বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার প্রথম প্রেম বিসর্জন দিলাম...। এরপর ও বাড়িতে আমার থাকা আর হল না। আমি গাজিপুর পালিয়ে গেলাম। কিন্তু কোথাও একমুঠো শান্তি পেতাম না, ঠাকুরমার চাঁদ মুখটা সবসময় শুধু চোখের সামনে ভেসে উঠত। আমি বুঝে উঠলাম যে, ‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না ইহা দূরেও ঠেলে দেয়’!
এভাবে কয়েকটি বছর কেটে গেল......। ’০৯ য়ে হঠাৎ ঠাকুরমার মৃত্যু সংবাদ এলো! আমি পড়িমরি করে বাড়ি ফিরলাম। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে! ঠাকুরমার শেষ দেখাও আমি পেলাম না, ঠাকুরমার চিতা তখন মহাশ্মশানে জ্বলছে । ঠাকুরমা এ পৃথিবীতে আর নেই কিন্তু আমার পৃথিবীতে ঠাকুরমা এখনও জীবন্ত, অমর হয়ে আছে। আমার কাছে ঠাকুরমার কোন ছবি নেই, তার প্রয়োজনও হয় নি! কারণ ঠাকুরমা আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে সমস্ত সত্তা জুড়ে বিদ্যমান। ৬০-৬২ বছরের মেয়েদের মাঝে আমি আমার ঠাকুরমাকে খুঁজে পাই।
আজ এই ভালবাসার দিনে ঠাকুরমাকে খুব মিস করছি...। ‘ঠাকুরমা আমার অন্তরের অন্তঃস্থলে জমানো সবটুকু ভালবাসা শুধু তোমার জন্য’। ভাবছি জীবনে আর কোনদিন বিয়েই করবো না- আর যদি করতেই হয় ঠাকুরমার মত কাউকে খুঁজে পেলে তারপর বিয়ে করবো। love you Thakur maa, love you very very much……
February 14, 2012
এভাবে কয়েকটি বছর কেটে গেল......। ’০৯ য়ে হঠাৎ ঠাকুরমার মৃত্যু সংবাদ এলো! আমি পড়িমরি করে বাড়ি ফিরলাম। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে! ঠাকুরমার শেষ দেখাও আমি পেলাম না, ঠাকুরমার চিতা তখন মহাশ্মশানে জ্বলছে । ঠাকুরমা এ পৃথিবীতে আর নেই কিন্তু আমার পৃথিবীতে ঠাকুরমা এখনও জীবন্ত, অমর হয়ে আছে। আমার কাছে ঠাকুরমার কোন ছবি নেই, তার প্রয়োজনও হয় নি! কারণ ঠাকুরমা আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে সমস্ত সত্তা জুড়ে বিদ্যমান। ৬০-৬২ বছরের মেয়েদের মাঝে আমি আমার ঠাকুরমাকে খুঁজে পাই।
আজ এই ভালবাসার দিনে ঠাকুরমাকে খুব মিস করছি...। ‘ঠাকুরমা আমার অন্তরের অন্তঃস্থলে জমানো সবটুকু ভালবাসা শুধু তোমার জন্য’। ভাবছি জীবনে আর কোনদিন বিয়েই করবো না- আর যদি করতেই হয় ঠাকুরমার মত কাউকে খুঁজে পেলে তারপর বিয়ে করবো। love you Thakur maa, love you very very much……
February 14, 2012

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন