Powered By Blogger

শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১২

পুরনো সেই দিনের কথা....


আর দশটা দক্ষিণ এশিয় ছেলের মত আমিও মোটামুটি ভয়াভহ ক্রিকেট পাগলরিকি পন্টি,সৌরভ গাঙ্গুলি, শচীন টেন্ডুলকার এগুলো আমার কাছে কোন ক্রিকেটার নয় এক একটি দেবতার নামগত বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলঙ্কা ওডিআই সিরিজের ভারত-শ্রীলঙ্কার একটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য রিমুকে প্রস্তাব করেছিলাম আমার উদ্দেশ্য ভরা গ্যালারীতে শচীন টেন্ডুলকারের বাটিং দেখতে কেমন লাগে এ অভিজ্ঞতা অজর্ন করা
একপাশে শচীন ব্যাট করছে অন্যপাশে মুরালী বল করছে এরকম দৃশ্য দেখার জন্য আমি প্রায় ব্যাকুলকিন্তু রিমু মিলনরা বেঁকে বসল! ওদের আবার অন্য ইচ্ছা, ওরা চায় ওদের মাগুরার সাকিব; মুরালীর বলগুলো কীভাবে গ্যালারীতে পাঠায় তা দেখাএ নিয়ে ওদের সাথে খিটিমিটি লেগেই থাকত, যা মনে হয় ঈশ্বরেরও নজর কেরেছিল! সেবার মুরালী-শচীন দুজনের কেউই এলো না আমাদেরও আর খেলা দেখা হলো নাআমার চার বছরের কৃষি ডিপ্লোমা কোর্স শেষ হতে চলছে হোস্টেলে থাকা খাওয়া সমস্যা, বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা সবকিছু মিলে গত কয়েক বছরে প্রতিনিয়ত মনে হচ্ছিল এখানে পড়তে আসি নি এসেছি নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে বাইরে থাকতে গেলে খরচ বেশী তাই হোস্টেলেই আট জনের জায়গায় গাদাগাদি করে বার জন থাকিডাইনিং রুমের অবস্থা আরও ভয়াবহ ! সকাল বেলা আলুভর্তা মসুড় ডাল দিয়ে ভাত খেতে হবে ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে একথা মনে পড়ে আর মনটা খারাপ হয়ে যায়না আলু ভর্তা মসুড় ডালের বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই, কিন্তু এখানে যে মসুড় ডাল দেয়া হয় সেখানে মসুড় খুজতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগবে অবস্থা এমন যে এখানে ডালকে আর কেউ ডাল বলে নাকেউ সেটাকে বলে গরম জলকেউ বলে হলুদ রঙের পানিগত কয়েক বছরে এ সমস্যা গুলোর দরুন বাড়ি ফেরার জন্য সবসময় ব্যাকুল হয়ে থাকতাম
কিন্তু এখন আমার অনুভুতি অন্য কথা বলছে,আর পাচ্ছয় মাস পর এই কলেজকে এখানকার বন্ধুদেরকে গুডবাই বলতে হবে এখন একথা ভাবতেই...............
বন্ধু নয়,জীবনেরই একটি অংশ-যার সম্পর্কে একসময় এরকম ভাবতাম সেই আমাকে অপ্রয়োজনীয় কাগজের মত মুছরে ফেলে দিয়েছেএখানে এসে অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হবার পর সেই দুঃখটা ঘুঁচেছিলকিন্তু এ সুখ দেখে মনে হয় সৃষ্টিকর্তারও হিংসা হচ্ছে.........
অনেক কিছুর সাথে এখন আমি এটাও উপলব্দি করতে পারছি যে, এখান থেকে চলে যাওয়ার পর এদের কারও সাথেই আর যোগাযোগ হবে না, সবাই ব্যাস্ত হয়ে উঠবোঅনেকের সাথে মনে হয় জীবনে আর কোনদিন দেখাও হবে না............
কিন্তু প্রতিনিয়ত এদের কথা আমার মনে পড়বেসবসময় এদের আমি মিস করবোমিস করবো হোস্টেলের আড্ডা, একেক জেলার ছেলে-মেয়েদের আঞ্ছলিক ভাষা নিয়ে মজা করামিস করবো ডাইনিংয়ের আলু ভর্তা-মসুড় ডালআরও মনে পরবে হোস্টেলে ওঠার পথে সিঁড়ি গুলোর কথা, মন খারাপ থাকলে যেখানে একা বসে থাকি, মাঝেমধ্যে যেখানে বসে জীবনের পাওয়া না পাওয়া আনন্দ বেদনার কথাগুলো ভাবিমিস করবো কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছি শিরোনামের সেই আনন্দদায়ক মুহূর্তটির কথাকিন্তু এতক্ষণ যাদের কথা বললাম, এদের কি আমার কথা মনে পরবে ? এখানকার যত বন্ধু-বান্ধবী, হোস্টেলের সিঁডি, ডাইনিং এর আলুভর্তা-মসুড় ডাল তোমাদের বলছি, জীবনের শেষ মুহূর্ত অব্দি তোমাদের কথা আমার মনে পড়বেকিন্তু তোমরা কি আমায় মিস করবে-মনে রাখবে......?

গাজীপুর
মে ০৬,২০১০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন