আমার এক প্রতিবেশিনী আছে। না প্রতিবেশিনী অনেক তবে একজন আছে, যে আলাদা এবং আলাদা করে ভাবায়..! আমার পড়ার টেবিলের জানালা প্রতিদিন আমায় সেই প্রতিবেশিনী দর্শনের সুযোগ করে দেয়। মনুষ্য জীবন এ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য মন্ডিত জীবন। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই একথা জেনেছি-বুঝেছি,
উপলব্দি করেছি। কিন্তু ইদানিং একথা আমার কাছে বার বার মিথ্যা প্রতিপন্ন হচ্ছে। গৃহপালিত পশু পাথির প্রতি প্রতিবেশিনীর গভীর ভালবাসা আমায় চিন্তায় ফেলে দেয়, আসলেই কি মনুষ্য জীবন পৃথিবীতে সেরা? মাঝে মধ্যে জানালা দিয়ে দেখি- প্রতিবেশিনী ছাগলের বাচ্চা বুকে নিয়ে হাঁটছে। প্রতিবেশিনী যখন গভীর ভালবাসায় ছাগলের বাচ্চাটি বুকে টেনে নেয় আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়, শুধু মনে হয় বৃথা এ মনুষ্য জীবন । ওই ছাগলের প্রতি হিংসা জন্ম নেয়। ওই ছাগল জীবন লাভের জন্য প্রার্থনা শুরু করে দিতে ইচ্ছে করে। ইস্ ছাগল জাতির সাথে যদি মনের ভাব প্রকাশ করা যেত, এই জনমে কী পুন্ন করলে পরবর্তী জন্মে অমন সাধের-সৌভাগ্যের ছাগল জীবন পাওয়া যাবে এ ব্যাপারে টিপস্ চেয়ে নিতাম। মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি তাই মানব জাতীর প্রতি আমার আলাদা একটা ভালবাসা আছে, আর এই ভালবাসা আমার মনে একটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেশিনী যেভাবে ছাগলের বাচ্চাটি বুকে তুলে নেয়- মমতা মাখানো এ দৃশ্য পৃথিবীতে মানব জাতির বিলুপ্তি ঘটাতে পারে। যে এই দৃশ্য দেখবে, প্রতিবেশিনীর মমতা আর ভালবাসা পাওয়ার লোভে সে শুধু ছাগল হয়ে এ পৃথিবীতে আসার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবে,
সৃষ্টিকর্তার হাত পা ধরে কান্নাকাটিও করতে পারে। আর সৃষ্টিকর্তার তো একটা বদ অভ্যাস আছেই-কারো প্রাণের চাওয়া গুলো পূরণ না করে তিনি থাকতেই পারেন না...
[24 February, 2012]

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন