আরেকটু হলেই মনেহয় মিস করে ফেলতাম। কিন্তু যে
সিট-টা পেলাম সেটাতে একটু ভেজা ভেজা ভাব, কী পড়েছিল 'ফেলনেওয়ালাই' জানে।
কনকনে ঠান্ডা আর আমার ভাগ্যে জুটলো 'শীতলসিট'। কিছু বুজলাম না, সকালবেলা
খুব খারাপ কারো মুখ দেখে তো ঘুম ভাঙ্গে নি! টার্মিনাল থেকে বালুয়াডাঙ্গা
এসে বাস থামলো প্রায় বিশ মিনিটের জন্য। সেখানে আরও বেশ কয়েকজন উঠলো, বসার
জায়গা নেই সবাই দাঁড়িয়ে রইলো। বাস শুধু ছেড়ে দেবে এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে
একটা মেয়ে ছুটে এলো, কোলে আবার একটা ছোট
বাচ্চা। আমার সিটের সামনে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাতে লাগলো...। কোথাও বসার
জায়গা নেই, মেয়েটা একহাতে বাচ্চা আরেক হাতে একটা সিটের হাতল ধরে খুব কষ্ট
করে দাঁড়িয়ে রইলো। একবার ভাবলাম আমার সিট-টাতে ওকে বসতে দিই। কিন্তু বললাম
না। সবাই হয়তো ভেবে বসবে, "ছেলে নির্ঘাত 'Love at first sight' -এর কবলে
পড়েছে, নয়তো বাসে আরো তো লোক আছে; তার দরদ এত উথলে উঠলো কেন?"
কিছুদূর যেতে না যেতে... 'বাবুকে একটু নিন তো, খুব সমস্যা হচ্ছে' বলে ওই মেয়ে ফস করে তার কোলের বাচ্চা আমায় দিয়ে দিল, কন্ঠে যেন হাজার বছরের ক্লান্তি। আমায় একটুও সময়/সুযোগ দিল না কিছু বলার! সময়/সুযোগ পেলেও হয়তো কিছু বলতে পারতাম না, অমন **** একটা মেয়ের অনুরোধ/আদেশ প্রত্যাখ্যান করার স্পর্ধা আমার আছে বলে মনে হয় না :) । কিন্তু বাচ্চা কোলে নিয়ে আমি ভয়াবহ বিপদে পড়ে গেলাম। মনে ভয় ধরে গেল -বাচ্চা এই বুঝি ওর বিশেষ কর্মটা করে ফেললো...। ছোট বাচ্চা থেকে সবসময় সাধারণত আমি অনেক দূরে দূরে অবস্থান করি। ছোট অবস্থায় আমার দিদির ছেলেকেও আমি কোলে নি এবং এটাকে উপজীব্য করে দিদির ননদিনী অনেক উস্কানীমূলক কথাও শুনিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তবুও না!
আমি বাচ্চা এবং ভয় নিয়ে বসে রইলাম। মেয়েটি আমার খুব কাছাকাছি এসে নানানটা কথা শুরু করে দিল, 'এটা আমার ভাবির বাচ্চা, ডাক্তারের কাছে নিয়েছিলাম, দু'দিন ধরে জ্বর -সারতেই চায় না। ভাইয়া বললো তোর ভাবির তো...'। আমার প্রচন্ড রাগ হল। 'এটা ভাবির বাচ্চা না ভাবির মায়ের বাচ্চা' ওসব কথা কি আমি শুনতে চেয়েছি? এত কাছাকাছি কোন সুন্দরী মেয়ে দেখে এর আগে কক্ষনো আমার এমন রাগ হয়নি। কী করবো কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছি না, বাচ্চা কোলে প্রচন্ড অস্বস্থি নিয়ে বসে রইলাম। বাসে অনেক লোক, কিন্তু বাচ্চা দেয়ার জন্য ওই মেয়ে এমন একজনকে বেছে নিলো যার ভয়াবহ রকম 'বাচ্চাফোবিয়া'!
ধুকুরঝাড়ি এসে ওরা নেমে গেল। বাচ্চা নেয়ার সময় দেখি ওই মেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে, আমাকে অস্বস্থিতে ফেলে যেন খুব মজা পেয়েছে...। ফিরিয়ে দেয়ার সময় বাচ্চাটিকে আমি মনে মনে ধন্যবাদ দিতে লাগলাম। আমার কোলে চড়ে বিশেষ কর্মটি না করার জন্য ওর প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মনটা ভরে উঠলো।
* গতকাল দিনাজপুর গিয়েছিলাম, শীতবস্ত্রের নিমিত্ত্বে। আজ সাতসকালে বাবার ফোন 'দশটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে'। অগত্যা সকাল আট-টাতেই অটলের মেস থেকে রওনা দিতে হলো। ঘটনাটা ফেরার পথেই.....
[December 28, 2012]
কিছুদূর যেতে না যেতে... 'বাবুকে একটু নিন তো, খুব সমস্যা হচ্ছে' বলে ওই মেয়ে ফস করে তার কোলের বাচ্চা আমায় দিয়ে দিল, কন্ঠে যেন হাজার বছরের ক্লান্তি। আমায় একটুও সময়/সুযোগ দিল না কিছু বলার! সময়/সুযোগ পেলেও হয়তো কিছু বলতে পারতাম না, অমন **** একটা মেয়ের অনুরোধ/আদেশ প্রত্যাখ্যান করার স্পর্ধা আমার আছে বলে মনে হয় না :) । কিন্তু বাচ্চা কোলে নিয়ে আমি ভয়াবহ বিপদে পড়ে গেলাম। মনে ভয় ধরে গেল -বাচ্চা এই বুঝি ওর বিশেষ কর্মটা করে ফেললো...। ছোট বাচ্চা থেকে সবসময় সাধারণত আমি অনেক দূরে দূরে অবস্থান করি। ছোট অবস্থায় আমার দিদির ছেলেকেও আমি কোলে নি এবং এটাকে উপজীব্য করে দিদির ননদিনী অনেক উস্কানীমূলক কথাও শুনিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তবুও না!
আমি বাচ্চা এবং ভয় নিয়ে বসে রইলাম। মেয়েটি আমার খুব কাছাকাছি এসে নানানটা কথা শুরু করে দিল, 'এটা আমার ভাবির বাচ্চা, ডাক্তারের কাছে নিয়েছিলাম, দু'দিন ধরে জ্বর -সারতেই চায় না। ভাইয়া বললো তোর ভাবির তো...'। আমার প্রচন্ড রাগ হল। 'এটা ভাবির বাচ্চা না ভাবির মায়ের বাচ্চা' ওসব কথা কি আমি শুনতে চেয়েছি? এত কাছাকাছি কোন সুন্দরী মেয়ে দেখে এর আগে কক্ষনো আমার এমন রাগ হয়নি। কী করবো কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছি না, বাচ্চা কোলে প্রচন্ড অস্বস্থি নিয়ে বসে রইলাম। বাসে অনেক লোক, কিন্তু বাচ্চা দেয়ার জন্য ওই মেয়ে এমন একজনকে বেছে নিলো যার ভয়াবহ রকম 'বাচ্চাফোবিয়া'!
ধুকুরঝাড়ি এসে ওরা নেমে গেল। বাচ্চা নেয়ার সময় দেখি ওই মেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে, আমাকে অস্বস্থিতে ফেলে যেন খুব মজা পেয়েছে...। ফিরিয়ে দেয়ার সময় বাচ্চাটিকে আমি মনে মনে ধন্যবাদ দিতে লাগলাম। আমার কোলে চড়ে বিশেষ কর্মটি না করার জন্য ওর প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মনটা ভরে উঠলো।
* গতকাল দিনাজপুর গিয়েছিলাম, শীতবস্ত্রের নিমিত্ত্বে। আজ সাতসকালে বাবার ফোন 'দশটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে'। অগত্যা সকাল আট-টাতেই অটলের মেস থেকে রওনা দিতে হলো। ঘটনাটা ফেরার পথেই.....
[December 28, 2012]


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন