Powered By Blogger

শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩

Pakistan Tour


"দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাকিস্তান সফর স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর এই সিদ্ধান্তের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পিসিবি। সেই সঙ্গে বিপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশ নেওয়ার অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।" -প্রথম আলো



 

গত বিপিএল -এ একজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল, নামটা নাসির জামসেদ -একজন খাঁটি পাকিস্তানি। ওরা না এলে বিপিএলটা অনেক নির্ভেজাল হবে, নির্ভেজাল হওয়া কি খুবই ক্ষতিকর? যদি না হয়ে থাকে তবে পাকি বোর্ডের ইঙ্গিত ফিঙ্গিতে ভ্রুক্ষেপ করার কোন মানে হয় না। আরও নয়টা টেস্ট প্লেয়িং দেশ আছে; তাঁদের তো ওরা কিছু বলতে পারে না, ওদের টানাহেঁচরা শুধু বাংলাদেশকে নিয়ে। যাদের দ্বারা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি তাদের কাছে অসহায়ের মত মাথা নত করতে হবে- আমাদের ক্রিকেট অবশ্যই সেরম দুরাবস্থায় নেই। ধন্যবাদ বিসিবি, সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য... নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার আগে নিরাপত্তা দেয়ার সামর্থ থাকতে হয়, ওদের সেটা নেই। সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সঠিক, কারন সাকিব আল হাসানদের কারখানায় উত্‍পাদন করা যায় না...

1 January 2013

বই পাগল


বই পড়ার বেলায় আমি একেবারে অক্লান্ত পাঠক, জীবনে এই কাজটাই মনেহয় আমি সবচেয়ে বেশী করেছি। কিন্তু শুনে হয়তো অবাক হবে, এখন পর্যন্ত আমাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, "তুই বই পড়তে চাস না কেন?, তুই বই পড়তে চাস না কেন??, তুই বই পড়তে চাস না কেন???"
সমস্যাটা হলো, "বই পড়তে সীমাহীন আনন্দ বোধ করি কিন্তু পাঠ্য বই নহে...!" পড়তে বসে এক-চতুর্থাংশ সময়ও যদি পাঠ্যবইকে দিতাম, MIT -র 'School of Science and Engineering' ডিপার্টমেন্ট হয়তো এতদিনে বাংলাদেশী বংশদভুত ডিপার্টমেন্ট হেড পেয়ে যেত, :-D


22 December 2012

টাইগারদের সমস্যা...


টেকনিক্যাল সমস্যা নয়, আমাদের টাইগারদের সমস্যা অন্যখানে।আমার মনে হচ্ছে সমস্যাটা ফ্রয়েডীয়। গ্যালারীতে সুন্দরী ললনারা রং মেখে সং সেজে বসে আছে, জায়ান্ট ইস্কৃনে বেশী বেশী করে তাদের দেখানো হচ্ছে, ব্যাটসম্যানদেরকে স্কোর দেখার জন্য বারবার ওদিকে তাকাতে হয়। আর এটাই হয়তো তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বড় মঞ্চে এসে সদ্য বয়সন্ধী পার করা টাইগারবৃন্দ সুন্দরী ললনাদের সামনে মহানায়ক সাজার তাড়না থেকে এক্সট্রা কিছু করতে চাইলে তাদের খুব একটা দোষ দেয়া যায় না। :-D
সব দোষ তাদের...গ্যালারীর ঝক্ঝকে রঙ্গিন পেত্নীদের...


8 December 2012


চাকরীটা আমি পেয়ে যাবো অনি শুনছো...

চাকরীটা আমি পেয়ে যাবো অনি শুনছো
তখন আর কেউ আটকাতে পারবে না
সমন্ধটা এইবার তুমি একটু দমিয়ে রাখো
মাকে বলে দাও বিয়ে তুমি করছো না
চাকরীটা আমি পেয়ে যাবো অনি সত্যি
মাত্র একটা পরীক্ষা নেবে ব্যাস
স্টার্টিংয়েই ওরা ন'হাজার দেবে
একবারে কনফার্ম
চুপ করে কেন অনি কিছু বলছো না?
এটা ০১৭৩৩৫৯... অনি রায় তুমি পারছো কি শুনতে
কৃপনের মত টাকা জমিয়ে তোমাকে কল দিয়েছি
টাকা নেই আর পারবো না কল দিতে
হ্যালো ০১৭৩৩৫৯... দিন না ডেকে অনিকে একটি বার
ব্যালেন্স যাচ্ছে ফুরিয়ে
আমার N১২০০ সেলফোনের
জলদি খুব জলদি দরকার
স্বপ্ন তখন হয়ে যাবে অনি সত্যি
ট্রেজারী_ফেজারী কত্তো ঝামেলা
ঘুষখোর যত মন্ত্রী এমপি
হাত পা ধরা শুধু রয়েছে বাকি
রুদ্ধশ্বাষ কত দুর্নীতি
আর কিছুদিন তারপর অনি মুক্তি
সুইহারীর ওই সাদাদেয়ালের ঘর
সাদাকালো এই নির্জন্ঝাট প্রাণের স্মৃতির শহরে
তোমার আমার ছোট্ট সংসার
চুপ করে কেন একি অনি তুমি কাঁদছো
চাকরীটা আমি পেয়ে যাবো সত্যি
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় যাবে পেরিয়ে
হ্যালো.. তুমি শুনতে পাচ্ছ কি?
এটা কি ০১৭৩৩৫৯
হ্যালো.....
© reserved :)

আজ SAAO য়ে এপ্লাই করেছি,
ফেরার পথে লাইনগুলো মাথায় এলো। অরিজিনালটা নিশ্চয় সবাই জানো...


9 December 2012



শচীন টেন্ডুলকার টোটকা...


সেন্চুরী তো অনেক দূর... আগের ফিফটি-টি ছিল ১০ ইনিংস আগে! তাঁর সামর্থ নিয়ে কারো মনে কোন সংশয় নেই, আগেও ছিল না। কিন্তু কেন যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। সাবেকরা নানা রকম মতবাদ দিচ্ছেন, "একজন গ্রেট প্লেয়ারের তখনই অবসর নেয়া উচিত্‍ যখন সবাই বলবে, কেন যাচ্ছো-কেন যাচ্ছো?" কিন্তু লিটল মাস্টারের সাম্প্রতিক স্কোরগুলো 'কেন আছো-কেন আছো' টাইপের!

আজ ৭৬। অবশেষে রানের দেখা পেলেন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট দেবতা।
নেট প্রাকটিস, মেডিটেশন এগুলো কিন্তু তাঁকে দিনের পর দিন চলতে থাকা ব্যার্থতা থেকে উদ্ধার করতে পারে নি।
আসল ঘটনাটা এরকম... "শচীন সেদিন ড্রেসিংরুমে ঢুকেই দু’টো জিনিস চেয়ে বসলেন।
তাঁর পয়া ব্যাটের তলদেশে অতি সামান্য চিড় চোখে পড়েছে। অতএব ছুতোর চাই।
শতজীর্ণ আর্মগার্ডে সেলাই দরকার। দর্জি ডাকো।
শচীনের এই আবদার শুনে অবাক হয়ে যান ড্রেসিংরুমে উপস্থিত কেউ কেউ। যতক্ষণ না ছুতোর এসেছে, ব্যাটটা আগলে রেখেছেন শচীন। দর্জি সরঞ্জাম ভুলে ফেলে এসেছেন, অধৈর্য হয়ে লিটল মাস্টারের ডাক, “আরে, আমার কাছেই তো সব আছে!” বলে নিজেই ব্যাগ খুলে বার করেছেন সেলাইয়ের যাবতীয় সরঞ্জাম। উপস্থিত সবাই বিস্ময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট।" শচীনের সাফল্যের রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পর
[ :-D ] একজনের কথা আমার খুব মনে পড়ছে। তাঁর কথা মনে আছে তো? '৯৯-র ওয়ার্লডকাপ চমকের পর এক ঝটকায় টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ। এরপর বছরের পর বছর হারতে হারতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া BD টীমকে জয়ানুভূতি পাইয়ে দিয়েছেন। [সালটা ১0/0৩/২00৪, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে] এরপর আরো কয়েকটা অবিশ্বাস্য বড় বড় জয় এসেছে তাঁর হাত ধরে, তাঁর তৈরী মহান একটা রেকর্ড প্রায় এক যুগ ধরে অক্ষত। তিনি মোহাম্মদ আশরাফুল। নিজের বাজে ফর্ম, এনামুল-মমিনুলদের আবির্ভাব সবমিলিয়ে সুদূরতম ভবিষ্যতেও তাঁর দলে ফেরার [বা স্থায়ী হওয়ার] সম্ভাবনা নেই! তাঁর প্রতিভা-সামর্থ নিয়েও কারো মনে কোন সংশয় নেই, কিন্তু তবুও কেন যে কিছু হচ্ছে না!? দলে ফিরতে মরিয়া আশরাফুল হয়তো ঘন্টার পর ঘন্টা নেটে সময় কাটাচ্ছে অথবা রিকি পন্টিংয়ের পুরনো ভিডিও ফুটেজগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। আমার মতে ওসব রেখে তাঁর 'শচীন টেন্ডুলকার টোটকা' গ্রহন করা উচিত্‍। সহজ এবং কার্যকরী। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়া অথবা গায়ানায় দক্ষিণ আর্ফিকা বধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম গুলো কোথায় [ব্যাট-প্যাড-গ্লাভস-আন্ডারওয়ার প্রভৃতি]? আশরাফুল ডিয়ার, বাড়ির আনাচে কানাচে ঢুঁ মারো-সময় এসেছে ওগুলো খুঁজে বের করার।


5 December 2012 

• শচীন সম্পর্কীত তথ্যগুলোর উত্‍স
আজকের আনন্দবাজার পত্রিকা

টেরি ফক্স


হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন তিনি। মাথায় নানা চিন্তা। ভাবনার বেড়াজালে প্রায়ই প্যাঁচ লাগছে। খুলে যাচ্ছে জট। কখনও চোখ বন্ধ করে, আবার কখনও খুলে ভাবতে থাকেন তিনি। অপলক চোখে কখনও কখনও হাসপাতালের ছাদের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকেন নানা কিছু। চিন্তার অনুরণনে শুধুই অথৈ জলের ঢেউ! অসুস্থ শরীর নিয়ে মানুষের জন্য তাঁর কী-ইবা করার আছে? ভেবেছেন নিজের জীবন নিয়েও। ভালোভাবে পর্যবেক্ষণও করেছেন তাঁর মতো আরও অসংখ্য মানুষের জীবন-যন্ত্রণাবোধ। খুব কাছ থেকেই দেখেছেন সর্বনাশা ক্যান্সার কীভাবে মানুষের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। মৃত্যু সম্পর্কে হয়তো তাঁর এতটা গভীর উপলব্ধি হতো না, যদি নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত না হতেন। ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্তটা নিয়েই নেন। বেঁচে থাকলে ক্যান্সার আক্রান্ত এবং ক্যান্সার গবেষণার জন্য কাজ করবেন তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করতে মৃত্যুর আগে একপায়ে একটানা দৌড়েছিলেন ১৪২ দিন! পাড়ি দিয়েছিলেন দীর্ঘ ৫ হাজার ৩৭৩ কিলোমিটার, ইতিহাসের পাতায় যা আজ 'ম্যারাথন অব হোপ' নামে পরিচিত। উদ্দেশ্য ছিল ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। তাঁর নাম টেরি ফক্স। সারা বিশ্বের মানুষ তাঁকে আজ একনামে চেনে।
টেরি ফক্সের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ জুলাই কানাডার মানিটোবায়। শৈশব কাটে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার পোর্ট কোকুইটলামের মেরিল স্ট্রিটে। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রচণ্ড খেলাপাগল। তাঁর প্রিয় ছিল গাড়ি চালানো। এ ছাড়া তিনি ভালোবাসতেন সসার, রাগবি, বেসবল এবং বাস্কেটবল।
১৯৭৬ সালের ১২ নভেম্বর। টেরি গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তিনি তাতে আহত হন। ডান পায়ের হাঁটুতে বেশ জখম হয়। দৌড়ান হাসপাতালে। ভালো চিকিৎসাও হয়। কিন্তু টেরি বা চিকিৎসক কেউই ভাবতে পারেননি এ জখমই কেড়ে নেবে মূল্যবান একটি জীবন! ১৯৭৭ সালে হঠাৎ সেই জখমের স্থানে ব্যথা অনুভব করেন টেরি ফক্স। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওটা হাড়ের ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় হাঁটুর কয়েক ইঞ্চি ওপরে কেটে ফেলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। টেরি করলেনও তাই। এক পা ফেলেই দিলেন। তিন বছর চললেন এক পা ছাড়াই। কিন্তু আর কতদিন? বয়স তখন সবে ১৮। টেরি সিদ্ধান্ত নিলেন, যে মারাত্মক রোগের কারণে তিনি মৃত্যু পথযাত্রী, সেই রোগ যেন আর কারো জীবন কেড়ে নিতে না পারে, তার জন্য কিছু একটা করবেন। সে লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নেন ক্যান্সার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এক পা নিয়েই তিনি দৌড়াবেন পুরো কানাডা।
১৯৮০ সালের ১২ এপ্রিল নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে শুরু করেন দৌড়। কিন্তু সর্বনাশা ক্যান্সার তাঁর ইচ্ছা পূরণে মোটেও পাত্তা দিল না। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থান্ডার বে'র কাছে দৌড় থামাতে বাধ্য হন। ভর্তি হন হাসপাতালে। কিছুদিন পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২২ বছর। ২০০৪ সালে কানাডিয়ানরা টেরি ফক্সকে ‘সেকেন্ড গ্রেটেস্ট কানাডিয়ান অফ অল টাইম’ হিসেবে নির্বাচিত করে। বিশ শতকে কানাডার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর স্মরণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে "টেরি ফক্স রান"। চলে ক্যান্সার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ।
টেরি ফক্স আমাদের সবার জন্য এক জ্বলন্ত উদাহরণ। কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, শারীরিক অক্ষমতা কোনো কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। এর জন্য থাকা চাই অদম্য মনোবল।

আজ আমাদের এলাকায় দেখলাম পোষ্টার টাঙ্গানো হয়েছে, বিষয়বস্তু "দিনাজপুর ম্যারাথন"। কান্তজী মন্দির থেকে গোরা শহীদ ময়দান, আগামী ১৯ জানুয়ারী -তে। দৌড়-এ আমার প্রচন্ড অনীহা তবুও মনটা খুব করে চাইছে এই ম্যারাথনে অংশ নি, শুধুমাত্র তাঁর জন্য । Terri Fox, you are my hero...
18 December 201

• ওয়েবসাইট থেকে... 

মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩

মিডিয়ার দায়বদ্ধতা!


সকালবেলা এক ফেইসবুক ফ্রেন্ডের একটা পোষ্ট নজরে পড়লো। সে লিখেছে, "ভারতের ২৩ বছর বয়েসী একটা মেয়ের গণধর্ষনের প্রতিবাদে ব্লগে-ফেসবুকে সবাই সোচ্চার, কিন্তু টাঙ্গাইলে ১৫ বছর বয়েসী একটা মেয়ে গণধর্ষনের শিকার হয়েছে এটা নিয়ে কথা বলার কেউ নেই।"
আমি বলবো এর পুরো দায়টা মিডিয়ার। দিল্লীতে গণধর্ষনের শিকার ওই মেয়েটার কোথায় চিকিত্‍সা হয়েছে, তাঁর চিকিত্‍সার ব্যায়ভার কে বহন করেছে, তাঁকে নিয়ে কোথায় কোথায় বিক্ষোপ হয়েছে, বিক্ষোপকারীদের স্লোগান কী ছিল, তাঁকে নিয়ে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী- রাষ্ট্রপতি কী কী বিবৃতি দিয়েছে -"পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাংলা ওয়েবপোর্টাল" -'স্লোগানওলা' প্রথম আলো সেগুলো অত্যন্ত নিষ্টার সাথে প্রকাশ করেছে... কিন্তু সেইরকম বিভত্‍স ঘটনা তারও দশ দিন আগে নিজের দেশেই ঘটে গেছে এই খবর তারা জানতে পারলো 'দিল্লীমেয়ের' অন্তেষ্টিক্রিয়ার খবর প্রকাশের পর! বিদেশে একটা মেয়ে বিভত্‍সভাবে ধর্ষিত হচ্ছে, সেই ঘটনা আমাদের স্পর্শ করছে, আমরা ওয়েব জগতে তুলকালাম কান্ড বাধিয়ে দিচ্ছি কিন্তু নিজের দেশে নবম শ্রেণী পড়ুয়া একটা মেয়ে সেইরকমই বিভত্‍স গণধর্ষনের শিকার হয়েছে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সে এখন পুরুষ দেখলেই শিউরে উঠে -এই খবর আমরা জানতেও পারলাম না। যখন জানতে পারলাম তখন আমরা লজ্জায় কিছু বলতেও পারছি না কিছু লিখতেও পারছি না, কারণ ততদিনে আমাদের ওয়েবপৃষ্টা 'একজন বিদেশীনীর' প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদে ভর্তি হয়ে গেছে...!
[January 03, 2012]


                                                               

পিশাচ নিধনের উপায়?


দিল্লীর ওই মেডিকেল ছাত্রীর গণধর্ষণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হতে দেখেছি বাংলাদেশের বড় বড় প্রায় সবগুলো ওয়েব পোর্টালকে...। সেই উত্তাল ঢেউয়ে আমি নিজেও ভেসে গিয়েছি। কিন্তু 'দিল্লীকান্ডের' মত ভয়াবহ ঘটনা তারও ১০ দিন আগে ঘটে গেছে টাঙ্গাইলের বোকারবাইদ এলাকায়; যেটা আমি জানতে পারলাম মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে, prothom-alo.com -এ। 'দিল্লীকান্ড' নিয়ে নানা ওয়েবসাইটে আর দশজনের মত আমিও অনেক চেঁচামেচি করেছি, ঘৃণাভরে ধিক্কার জানিয়েছি...। আজ নিজের দেশে সেইরকমই জঘন্য একটা ঘটনা ঘটে গেছে অথচ আজ এনিয়ে কিছু বলার/লেখার কোনরুপ তাগিদ অনুভব করছি না। লিখে শুধু ওয়েবসাইটের পাতা ভর্তি হচ্ছে কিন্তু দায় থেকে মুক্তি মিলছে কই? কী বা করার আছে আমাদের? প্রশাসন-ই বা কী করবে? কোথায় কোথায় ধর্ষন হচ্ছে, বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে? সবাই হয়তো বলবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা...।
শুনেছি সৌদি আরবে এধরণের জঘন্য অপরাধের শাস্তি দেয়া হয় জনসম্মক্ষে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে, এরপর সবার সামনে তাদের দেহ-মাথা আলাদাকরে ঝুলিয়ে রাখা হয়! ওইসমস্ত নরপশুদের পাশবিক স্বত্তা নিস্তেজ করতে এর চেয়ে ভাল টনিক আর কী হতে পারে? সৌদি আরবীয় শাস্তির বিধান এখন যেন সময়ের দাবি...। এছাড়া ওদের আটকানোর আর কোন রাস্তা দেখছি না। ওই পশুদের চেনারও কোন উপায় নেই, ওরা অবিকল মানুষের মত দেখতে! কে জানে, স্রষ্টা হয়তো তাদের ভুল করে মানুষের মত করে পাঠিয়েছেন! মানুষ হলে তারা বুঝতো, ভাবতো, ওই ধরণের জঘন্য পাশবিক কর্মগুলো করার আগে তাদের নিজের বোনটির কথা মনে পড়তো...

[January 02, 2012]

   
   
       

:'(


বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে তারেক রহমান অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। দুর্নীতির সঙ্গে তারেকের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আমি বুঝি না, তিনারা কী প্রমাণ করতে চাইছেন? প্রোটিন -কার্বোহাইড্রেট শুধু তিনারাই খান আর পাবলিক চাঁদের আলো খেয়ে বেঁচে থাকে?
'দুর্নীতির সঙ্গে তারেকের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না' -তবে কি তিনি ঘরের মেঝেতে কেরোসিন খনির সন্ধান পেয়েছিলেন? 
"চোরের
 মায়ের বড় গলা" -প্রবাদটি ম্যাডাম প্রতিষ্ঠিত করে ছাড়লেন!
বরিশালের জনসভায় তিনি বুলি ছড়িয়েছেন, 'সুযোগ দিন ক্ষমতায় গেলে ব্যাপক উন্নয়ন করে দেশের চেহারা পাল্টে দেব'।
জনৈক মহাপুরুষের কথাটাই ঠিক, 'সবাই পৃথিবীটাকে পাল্টে দিতে চায় কেউই নিজেকে পাল্টানোর কথা ভাবে না'

আমাদের সত্যিই কিছু করার নেই। আজ জলে নেমে কুমিরের উত্‍পাতে বিপর্যস্ত আমারা প্রতিজ্ঞা করছি, একবার ডাঙ্গায় উঠি এরপর আর কখনো জলের ধারেকাছেও ভিড়বো না। ডাঙ্গায় যে আরেক বাঘিনী মুখ হাঁ করে ওঁত্‍ পেতে বসে আছে সেদিকে কারো খেয়াল নেই।
জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। জল-ডাঙ্গা ছাড়া আমাদের যাওয়ারও আর জায়গা নেই।
কিছুই করার নেই আমাদের, অসহায় আমরা শুধু সেই ভাবনাই ভাবতে পারি, বাঘ -কুমিরের মধ্যে কে একটু কম নির্মম করে খাবে?


  [20 November, 2012]


A facebook post


আজ পাবলিক লাইব্রেরীতে-প্রথম আলোতে দেখলাম, বিনোদন পাতায় সানি লিওনের বড় করে ছবি ছেপে নিউজ করা হয়েছে তিনি দিল্লী না মাদ্রাজের কোন র‍্যাম্পে নাকি হাঁটবেন মুখ দিয়ে ফস করে ছিঃ ছিঃ বের হয়ে গেল পাশে বসা ইস্কুল পড়ুয়া এক পাঠক জানতে চাইল,'কী হয়েছে দাদা?'
ছিঃ বলার কারণ তাকে বলতে পারলাম না। 

আর এঁদের অনলাইন সংস্করণ তো সানি লিওনের পেছনে উঠেপড়ে লেগে গেছে, সে যা করে তা ছেড়ে দেবে কিনা, সে মুম্বাইতে বাড়ি পাচ্ছে কি
না -পারলে মনেহয় লাইভ আপডেটও দিত। যেন তাঁরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ্য -"সানি লিওনকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব"! দুনিয়ায় আর সেলিব্রেটি নেই? যার কথা বলছি তার ব্যাপারে যদি কিছু জেনে থাক তাহলে চুপ করে থাক, যদি না জান জানতে চেও না। কারণ যে বিষয়ে কথা বলছি, তুমি যদি আইনস্টাইন হওয়ার দৌড়ে থাকো; এই বিষয়গুলো তোমার যাত্রা বিশ বছর ডি-লে করবে...!!!
আমি জানি নিয়ে পোষ্ট দেয়া আমার উচি হয় নি। কিন্তু বাংলাদেশের আইকন হয়ে ওঠা গনমাধ্যমটির যে অবস্থা সেখানে আমি কোন ছার!!!??
  

[November 12, 2012. 6:23PM]

শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৩

'বাচ্চাফোবিয়া'

আরেকটু হলেই মনেহয় মিস করে ফেলতাম। কিন্তু যে সিট-টা পেলাম সেটাতে একটু ভেজা ভেজা ভাব, কী পড়েছিল 'ফেলনেওয়ালাই' জানে। কনকনে ঠান্ডা আর আমার ভাগ্যে জুটলো 'শীতলসিট'। কিছু বুজলাম না, সকালবেলা খুব খারাপ কারো মুখ দেখে তো ঘুম ভাঙ্গে নি! টার্মিনাল থেকে বালুয়াডাঙ্গা এসে বাস থামলো প্রায় বিশ মিনিটের জন্য। সেখানে আরও বেশ কয়েকজন উঠলো, বসার জায়গা নেই সবাই দাঁড়িয়ে রইলো। বাস শুধু ছেড়ে দেবে এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে একটা মেয়ে ছুটে এলো, কোলে আবার একটা ছোট বাচ্চা। আমার সিটের সামনে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাতে লাগলো...। কোথাও বসার জায়গা নেই, মেয়েটা একহাতে বাচ্চা আরেক হাতে একটা সিটের হাতল ধরে খুব কষ্ট করে দাঁড়িয়ে রইলো। একবার ভাবলাম আমার সিট-টাতে ওকে বসতে দিই। কিন্তু বললাম না। সবাই হয়তো ভেবে বসবে, "ছেলে নির্ঘাত 'Love at first sight' -এর কবলে পড়েছে, নয়তো বাসে আরো তো লোক আছে; তার দরদ এত উথলে উঠলো কেন?"

কিছুদূর যেতে না যেতে... 'বাবুকে একটু নিন তো, খুব সমস্যা হচ্ছে' বলে ওই মেয়ে ফস করে তার কোলের বাচ্চা আমায় দিয়ে দিল, কন্ঠে যেন হাজার বছরের ক্লান্তি। আমায় একটুও সময়/সুযোগ দিল না কিছু বলার! সময়/সুযোগ পেলেও হয়তো কিছু বলতে পারতাম না, অমন **** একটা মেয়ের অনুরোধ/আদেশ প্রত্যাখ্যান করার স্পর্ধা আমার আছে বলে মনে হয় না :) । কিন্তু বাচ্চা কোলে নিয়ে আমি ভয়াবহ বিপদে পড়ে গেলাম। মনে ভয় ধরে গেল -বাচ্চা এই বুঝি ওর বিশেষ কর্মটা করে ফেললো...। ছোট বাচ্চা থেকে সবসময় সাধারণত আমি অনেক দূরে দূরে অবস্থান করি। ছোট অবস্থায় আমার দিদির ছেলেকেও আমি কোলে নি এবং এটাকে উপজীব্য করে দিদির ননদিনী অনেক উস্কানীমূলক কথাও শুনিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তবুও না!

আমি বাচ্চা এবং ভয় নিয়ে বসে রইলাম। মেয়েটি আমার খুব কাছাকাছি এসে নানানটা কথা শুরু করে দিল, 'এটা আমার ভাবির বাচ্চা, ডাক্তারের কাছে নিয়েছিলাম, দু'দিন ধরে জ্বর -সারতেই চায় না। ভাইয়া বললো তোর ভাবির তো...'। আমার প্রচন্ড রাগ হল। 'এটা ভাবির বাচ্চা না ভাবির মায়ের বাচ্চা' ওসব কথা কি আমি শুনতে চেয়েছি? এত কাছাকাছি কোন সুন্দরী মেয়ে দেখে এর আগে কক্ষনো আমার এমন রাগ হয়নি। কী করবো কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছি না, বাচ্চা কোলে প্রচন্ড অস্বস্থি নিয়ে বসে রইলাম। বাসে অনেক লোক, কিন্তু বাচ্চা দেয়ার জন্য ওই মেয়ে এমন একজনকে বেছে নিলো যার ভয়াবহ রকম 'বাচ্চাফোবিয়া'!

ধুকুরঝাড়ি এসে ওরা নেমে গেল। বাচ্চা নেয়ার সময় দেখি ওই মেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে, আমাকে অস্বস্থিতে ফেলে যেন খুব মজা পেয়েছে...। ফিরিয়ে দেয়ার সময় বাচ্চাটিকে আমি মনে মনে ধন্যবাদ দিতে লাগলাম। আমার কোলে চড়ে বিশেষ কর্মটি না করার জন্য ওর প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মনটা ভরে উঠলো।

* গতকাল দিনাজপুর গিয়েছিলাম, শীতবস্ত্রের নিমিত্ত্বে। আজ সাতসকালে বাবার ফোন 'দশটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে'। অগত্যা সকাল আট-টাতেই অটলের মেস থেকে রওনা দিতে হলো। ঘটনাটা ফেরার পথেই.....


[December 28, 2012]


                                                      

চাপে পড়া জীবনদর্শন!

এক সময়ের buddy-র সাথে আজ অনেকদিন পর অনেক কথা হল। ওর কাছে তাঁর কথা জানতে চাইলাম, 'তিনার খবর কী?' Buddy প্রশ্ন শুনেই কেমন যেন একটু রেগে গেল; নিজেকে সামলে সে বলল, 'ওর বিয়ে হয়ে গেছে।'
এরপর উদ্ভাসিত জীবনবোধের কিছু নমুনা শুনলাম তার মুখে, 'আরে ওটা কোন বিষয় না, প্রেম ছিল তো কী হয়েছে? যার সাথে প্রেম তাকেই যে বিয়ে করতে হবে এমন তো কোন কথা নেই, প্রেম হচ্ছে একটা...'
ওর কথা শুনে আমার মনে হল, একজনকে পাকা কথা দিয়ে -তার সাথে স্বামী-স্থীর মত আচরণ করে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করা যেন খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার, অহরহ হচ্ছে।
মেয়েদের কাছ থেকে ছ্যাকা খেলে ছেলেরা দেবদাস হয় জানতাম কিন্তু দার্শনিকও যে হয় buddy-র সাথে কথা বলে আজ জানলাম। ওর কথা শুনে খুব ভাল লাগলো।

"সুখ আর দুঃখ সবই সমান। মান কিংবা অপমানে পরমাত্মার গায়ে কোন আঁচড় লাগে না। যা হয়েছে তা ভালই হয়েছে,
যা হচ্ছে, তা ভালই হচ্ছে।
যা হবে তাও ভালই হবে।
তোমার কি হারিয়েছে- যে তুমি কাঁদছো ? তোমার আজ যা আছে,
কাল তা অন্যকারো ছিল।
পরশু সেটা অন্যকারো হয়ে যাবে,
পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম। একলা এসেছ এ ভবে একলাই চলে যেতে হবে" -গার্লফ্রেন্ডের মোবাইল বিল, রেঁস্তোরার দামি খাবারের বিল, রিকসা ভাড়াসহ অন্যান্য যাবতীয় বিল অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পরিশোধ করার পরও সে যখন অন্য আরেক জনের হাত ধরে ফুড়ুত্‍ হয়ে যায় 'ঐ ধরনের জীবন দর্শনগুলো' তখন খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে...

 [December 24, 2012]
               
                                                           
                                              

The bicycle thief

আজ বাজারে একজনকে গণপিটুনী খেতে দেখলাম। লোকটা সাইকেল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। সবাই এমনভাবে মারছিল, এরপর থেকে চুরি তো দূর সাইকেলের ছবিও মনে হয় সে আর দেখতে চাইবে না। ছোকরা হতে শুরু করে বুড়ো, সবাই পেটাচ্ছে... চোরটার ওপর মানুষগুলোর সে কি রাগ..!!
সময়গুলো বড্ড খারাপ।
কারো ছেলে হয়তো তাঁর কথা শোনে না, কেউ হয়তো বউয়ের সাথে ঝগড়া করে এসেছে, কেউ হয়তো প্রেমিকার দাগা খেয়েছে, বিরোধী দলের হরতাল হতে শুরু করে ক্রিকেট টীমের হার, চারপাশে শুধু রাগ আর রাগ...। কত্তো মানুষের কত্তো রকম রাগ, সবগুলোই যেন 'বেঁচারা' চোরের উপর দিয়ে গেল!
একজনকে দেখলাম দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলছে, 'গত শনিবার ফারুক চেয়ারম্যানের ঔষধের দোকানের সামনে থেকে আমার মামার সাইকেল চুরি গেছে, ওটাও শালা তুই-ই চুরি করেছিস....'

[December 07, 2012]