Powered By Blogger

শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১২

"প্রেমের চেয়ে..



"প্রেমের চেয়ে মহান জগত্‍ সংসারে আর কিছু নেই" -পুরনো এই
 কথাটা মাঝে মধ্যে খুব তাড়া করে। প্রেম প্রমাণ করেছে,
 পরিবার -প্রাণের বন্ধু ছাড়াও এমন কেউ থাকতে পারে 
যার জন্য অবলীলায় অনেক কিছু ত্যাগ করা যায়।
 এমন কি জীবনটাও। প্রেমের এই মহান অনুভূতিটা যার মধ্যে
 নেই তার জীবনটা ষোল আনাই বৃথা, যেমন আমারটা...!



[মতগুলো ব্যক্তিগত]

[November 24, 2012] 




বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২

আবুলকীর্তি

আজ থেকে প্রায় চার বছর আগের কথা, তখন আমি গাজীপুরে থাকতাম। একদিন সাত সকালে পাশের রুম থেকে গন্ডগলের আওয়াজ এল, দেখি সবাই ওই রুমে ছুটছে। গিয়ে দেখি ওখানে একটা বিদগুটে কান্ড ঘটে গেছে, রাজু ঘুসি মেরে আবেদুরের দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে; আবেদুর লাল ফোকলা মুখে চিত্‍কার চেঁচামেচি করছে। রাজুর এক কথা, 'শালা তুই আমাকে আবুল বলবি কেন?' মারামারির কারনটা আমার কাছে বড্ড অপ্রাকৃতিক মনে হল, আবেদুরের অপরাধ সে সবসময় রাজুকে 'আবুল'


 বলে ক্ষেপায়। সেদিন সকাল বেলা রাজু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি, সপাটে বসিয়ে দিয়েছে। সবাই চিত্‍কার চেঁচামেচি করছে আর আমি মনে মনে ভাবছি, কাউকে আবুল বলা কী এমন মহাপরাদ যে এর জন্য দাঁত হারাতে হবে!? আমাদের এলাকায় আবুল কাশেম নামে একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আছেন; সবাই তাকে মান্য করে। এরপর ধীরে ধীরে আবিষ্কার করতে লাগলাম 'আবুল' কথাটাকে সবাই গালি হিসেবে ব্যবহার করছে। 'হারামজাদা-গাধা-কুত্তা' এই ভয়াবহ গালিগুলো সবাই সহজে হজম করছে কিন্তু কারোরই 'শালা আবুল' কথাটা সহ্য হচ্ছে না।
কিন্তু আজ এ কী দেখছি!? কোথাকার কোন আবুল এসে কি কান্ডটাই না করলো...!!!
দশ নম্বরে এসে Number 1 SHAKIB হতে শুরু করে সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে 100* notout! তাও আবার ঠুকুস-ঠুকুস করে নয় একেবারে টিপ্পিক্যাল ব্যাটিং বিশেষজ্ঞের মত করে...!!
খুব আপসোস হচ্ছে। গাজীপুরে থাকলে এসময় কলেজের TV রুমে থাকতাম, এইমুহুর্তের 'আবুলকীর্তি' দেখে 'আবুলে এলার্জি' -দের অভিব্যক্তি কেমন হত খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
কে জানে, ক্রিকেট পাগল রাজুও হয়তো যশোরে- ওর বাড়িতে টিভির সামনে বসে ভাবছে, 'আবুল কথাটা 
খুব একটা খারাপ না'।





[November 21, 2012. about 5:00 pm]

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১২

কোন ঘনিষ্ট বন্ধু/বান্ধবী কারো সাথে...

কোন ঘনিষ্ট বন্ধু/বান্ধবী কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া মাত্র কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে যেতে থাকে। দেখা যায় যে বন্ধুটা আগে অনেক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপেও ক্লান্ত হত না প্রেমে পড়ার পর সে-ই হঠাত্‍ অনেক গুরুত্বপুর্ন বিষয়ও চেপে যাচ্ছে। প্রাণের বন্ধুর অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয় যেটা সবার আগে তোমার জানার কথা কিন্তু তুমি সেটা জানলে অন্যজনের কাছ থেকে, যার সেই অভিজ্ঞতা নেই সে কখনোই বুঝবে
না; তখন কেমন লাগে...?
কিছু করতে হবে না শুধু শেয়ারীংটা একটু কমিয়ে দাও দেখবে দুরত্বগুলো কত দ্রুত বাড়ছে। কত্তো রকম প্রশ্ন, 'লাস্ট কলটা আমি দিয়েছি ও এখনও দেয় নি, লাস্ট sms টা আমি পাঠিয়েছি ও reply করে নি!' যে বন্ধুর জন্য অবলীলায় অনেক কিছু ত্যাগ করা যায় অভিমানের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে তাকে একটা কল দেয়া যায় না...!!!

প্রেম ওদের পরিবর্তন করে দিচ্ছে কেন? হয়তো ওরা নিজেদের জন্য আলাদা একটা পৃথিবী নির্মাণ করছে যেখানে অন্য যা কিছু আছে সবই অর্থহীন কিংবা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে বিপর্যস্ত ওদের নিজেদের ছাড়া পৃথিবীর সবাইকেই সুখী মনে হচ্ছে। এটাই হয়ে থাকতে পারে। করণ ওরা পৃথিবীর যে অন্চলে বাস করে সেখানকার লোকেরা একটা ছেলে আর একটা মেয়ে এক হলেই চিত্‍কার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। বাচ্চা উত্‍পাদনে ওই লোকগুলোই আবার বিশ্ব রেকর্ড বানিয়ে রেখেছে...!!!

[ 19 November 2012 ]

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

জীবনটা শুধু ঘ্যান-ঘ্যান, প্যান-প্যান...


জীবনটা শুধু ঘ্যান-ঘ্যান, প্যান-প্যান শুনতে শুনতেই কেটে যাচ্ছে/গেল...!!!

"
বইপড় -বইপড় -বইপড়;
সারদিন তো শুধু টো টো করে ঘুরছিস"
-
অনেক কষ্টে বইপড়ার পাঠ চুকিয়ে এখন "চাকুরী -চাকুরী -চাকুরী!" ওটা জুটে গেলে তারপর শুরু হবে "বিয়ে-বিয়ে-বিয়ে" "হ্যাঁ রে বিয়ে করবি কবে? কলিকাতা হারবালের নাম শুনেছিস তো -ওরা ৮০ বছরের বৃদ্ধকেও ২৫ বছরের * পাইয়ে দেয়। দরকার হলে ভাই ওখানে গিয়ে চিকিত্সা করা তবুও বিয়েটা কর" -আমি দিব্য
দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি, চিন্ময়- -রিমু -আশীষরা এধরণের কথা নিয়ে তৈরী হয়ে আছে, চাকরীর পরও এভাবে থাকলে ওরা যে কোন সময় ঝাঁপিয়ে পড়বে। "Impotent" কথাটা খুব লাগবে -বিয়ে না করেও উপায় নেই। এরপর হয়তো নিজেকে মহাসুখী মনে হবে; আর কাপড়_চোপড় এলোমেলো থাকবে না -কথা বলার লোকের অভাব আর হবে না, 'সঙ্গী রিক্ত চির দুঃখ রাতি পোহাবো কি নির্জনে শয়ন পাতি' -গানটাও আর নিজের কথা বলবে না! শুধু তুমি+আমি আর...
কিন্তু ঠাম্মা আছেন কী করতে... আমি যেন শুনতে পাচ্ছি!! এরপর তিনি বলা শুরু করবেন, 'মরার আগে একটাই ইচ্ছা তোমার বাচ্চাকে কোলে বসে খাওয়াবো, কী আর করা যাই এভাবেই মরে যাই'!
আর যেই মাত্র একটা হবে... চিন্তা-ভাবনা, স্বপ্ন-আকাঙ্গা সব পরিবর্তন হয়ে যাবে। নিজের পৃথিবীটা তখন আলাদা কক্ষপথে ঘুরবে।
থাক পড়ে সুদূর ভবিষ্যত্টা...
বর্তমানটারই যে অবস্থা...! আমার একাডেমিক কাগজপত্রের অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ, এম্পলিয়ীমেন্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ...!!! হাতে গোনা যে কয়টাতে এপ্লাই করতে যাই বড় ভাইরা দেখি সেখানে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছে। দু'তিন বছর আগেও দেখতাম পড়াশোনায় আমার 'ভজোগটো' অবস্থা দেখে তাঁরা হা হুতাশ করতেন, সমবেদনা জানানোর চেষ্টা করতেন। কয়েকজন তো পাত্তাও দিতে চাইতেন না কারণ তাঁরা RU, JU -তে পড়েন, তাঁদের দেখে মনে হত এই অচক্রবাল বিস্তৃত ধরিত্রীর সাত জনমের ভাগ্য যে এর উপরে তাঁদের পা পড়ে। আজ তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে; পায়ের নিচ থেকে তাঁদের মাটি সরে যাচ্ছে।
ওপরের ওই ক্ষমতাওলা বড্ড খেয়ালী, তাঁর খেয়ালীর শিকার হয়ে ফস্ করে যদি একটা জব পেয়ে যাই, সমবেদনা প্রদানকারী এবং 'মুই কী হনু রে-ভাব ধরণকারী' ভাইদের দেখে আমার খুব খারাপ লাগবে।
ভাবছি দু'এক বছর এভাবেই থাকবো-কোথাও কোন এপ্লাই করবো না। এই দু'এক বছর শুধুই উপভোগ করবো; জীবনের সেরা সময় মনে করে.... বাপের ফাইভ স্টার হোটেল তো আছেই খোলা -দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা।

যেভাবে থাকতে চাচ্ছি... জানি সেভাবে থাকা সারাজীবন সম্ভব নয়। কোন এক সানডে মর্নিং হঠাত্যদি মনে হয় সিটিসেল এর নেটওয়ার্ক খুব স্লো-নেক্সট মানডে আফটারনুনেই হতে জিপি মডেম চলে আসবে। বাবার কাছে টাকা চাওয়ার সময় মনে হবে, "টাকা দেয়ার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে আছেন, কেহ চাইতে আসে না তাঁর কাছে"!! বাবার থেকে ওই টাকা নিতে আমার একটুও কুন্ঠা হবে না কিন্তু বিয়ের পর বৌয়ের জন্ম বিরতিকরণ সামগ্রী কেনার টাকা চাইতে খুব কুন্ঠা হবে

[November 12,2012 at 11:03PM]