জনৈক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেছেন বিশাল এক জনসভায়, প্রধান অতিথীরুপে, নির্বাচনের আর খুব বেশী দেরী নেই- এরম একটা সময়ে…।
‘বক্তৃতা মঞ্চে’ উঠে প্রথমে তিনি প্রতিপক্ষ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নানা রকম
কথা বললেন, সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন- বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড দেশে শুধু
অরাজকটাই সৃষ্টি করছে। ওরা দেশের ভালো চায় না। চাইলে এটা করতো না- সেটা
করতো না ইত্যাদি ইত্যাদি...।
এরপর আসন্য নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকাটাকে উন্নতির
জোয়ারে কতদূর নিয়ে যাবেন সেই নিয়ে তিনি লম্বা বক্তৃতা শুরু করে দিলেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলতে লাগলেন, “আপনারা, সাধারণ –নিষ্পাপ মানুষেরা
বর্ষাকালে অনেক কষ্ট সহ্য করেন, কারণ নদীতে কোন ব্রীজ নেই। আপনাদের আর কষ্ট
করতে হবে না, সামনের নির্বাচনে আমাদের জয়যুক্ত করেন নদীতে বড় একটা ব্রীজ
বানিয়ে দেব। যেটাতে একসাথে দুইটা ট্রাক যেতে পারবে এবং এর পিলারগুলো হবে
অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত, দুইতিন’শজন মিলে নাড়াচাড়া করলেও পড়বে না।”
বক্তৃতা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে ‘পিএ’ কে ডেকে বললেন, “কী রে, কেমন দিলাম বল?”
‘পিএ’ বলল, “স্যার বক্তৃতা তো ভালো হইছে, কিন্তু একটা সমস্যাও যে হইছে...!
- “কী সমস্যা?”
- “আপ্নে কইলেন নিরবাচনে জিতলে নদিতে বিরিজ বানায়া দেবেন কিন্তু এলাকায় তো
কোন নদি নাই- বিরিজ কোথায় বানাইবেন? এলাকায় ভাল কোন স্কুল নাই, এই বিষয়ে
যদি কিছু কইতেন...।”
মন্ত্রী বিরক্ত হয়ে বললেন, “আরে বল কী!!!??? স্কুল
নিয়ে লেখা বক্তৃতাটা তো আমার সাথেই ছিল। ইসসসরে... কাল অনেক রাত ধরে
‘নদীতে ব্রীজের প্রতিশ্রুতি’ বক্তৃতাটা প্রাকটিস করেছি। এবার থেকে যেই
এলাকায় বক্তৃতা দিতে যাবো সেই এলাকায় কী সমস্যা তা আগাম আমারে জানাইবা-
নইলে তোমার চাক্রী নট।

আমি
ভয়াবহ রকম 'নস্টালজিক'! যাহাই হোক না কেন...বাড়ি ছাড়বো না - সব সময় এরম
একটা ভাব নিয়ে চলি...!!! (খুব সম্ভবত এজন্যই, এখনও 'হটেনটটের' পর্যায়েই রয়ে
গেছি)। অবস্থা এমনই ভয়াবহ যে, ভিআইপি গ্যালারীতে বসে আইপিএল ফাইনাল দেখার
সুযোগ ঘটলেও মনে হয় সটান না বলে দেব!
বাড়ি ছেড়ে বেশীদিন দুরে থাকলে অদ্ভুত একটা কষ্ট অনুভব করি (ওটা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করতে পারবো না)।
নস্টালজিয়ার কারণ কী? এ থেকে পরিত্রাণের উপায়ই বা কী? ভাবছি এ নিয়ে বই লেখা শুরু করে দেব....
বেঞ্জামিন ডিজরেইলি বলেছেন, "কোন বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত হতে চাইলে তা নিয়ে বই লেখা শুরু করাই ভালো" :D
সাত সকালে বাজার গেছি কিন্তু গিয়ে দেখি দোকান পাট সব বন্ধ। কারণ কি?
–হরতাল!
জামাত হরতাল ডেকেছে। ওরা সবাই মিছিল বের করেছে। “যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁশি
চাই, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ কর -করতে হবে” বলে চিৎকার চেঁচামেচি করছে।
এসব দেখে আমি একেবারে খাম্বিত (বিস্ময়ে খাম্বার মত দাঁড়িয়ে থাকলাম)!
কি দেখছি এসব? যা দেখছি সব সত্যি তো? আমি বাম হাতে জোরে চিমটি দিলাম...। ফশ করে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।
গতকাল রাতে prothom-alo.com-এ হরতালের নিউজ পড়তে পড়তে নানা রকম চিন্তা করেছিলাম, নানা রকম চিন্তা...। ভাবছিলাম সর্বশক্তিমানের ক্ষমতা নিয়ে।
হে সর্বশক্তিমান আপনি তো অসীম ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের মাথার ঢিলা স্ক্রুগুলো টাইট করে দিন তো, দেখি আপনার কত্ত ক্ষমতা?
“রাজনীতিবিদেরা হচ্ছে ঝানু ব্যবসায়ী। তারা সবাই ব্যবসা করছে। সবাই করছে।
আওয়ামীলীগ ব্যবসা করছে একাত্তরের চেতনা নিয়ে, বি.এন.পি-জামাত ব্যবসা করছে
ধর্মীয় আবেগ নিয়ে” –আমাদের (বোকাচোদা পাবলিকদের) মাথায় এটা ঢুকিয়ে দিন তো,
দেখি আপনার কত্ত ক্ষমতা.........।
চোখ
বন্ধ করলেই আমি ছেলেটাকে দেখতে পাই। রোগা-পলকা শরীর। তালপাতার সেপাই।
লিকলিকে লম্বা। যেন একটু দমকা বাতাসেই উড়ে যাবে। ভাঙা গাল। কোটরাগত চোখ।
বাড়ন্ত বয়সটায় প্রয়োজনীয় বাড়তি পুষ্টি না পাওয়ার এক জীবন্ত মানচিত্র। নাকের
নিচে উঁকি দিতে শুরু করেছে বেয়াড়া গোঁফ। এ নিয়ে ছেলেটা লজ্জায় আড়ষ্ট ।
বয়সটা শুধু শরীরের দিক দিয়েই তো আর বাড়ন্ত নয়; মনে, মানে-অভিমানেও। অকারণে
আড়ালে কাঁদার।
ছেলেটা খুব লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেন
ভয়ংকর কোনো অপরাধ করে ফেলেছে। মনে মনে প্রার্থনা করে যাচ্ছে, পরিচিত কেউ
যেন তাকে এভাবে আবিষ্কার না করে। সমস্যা হলো, দিনটা আবার শুক্রবার। এদিন
রংপুরের পৌরবাজারে অনেকেই বাজার করতে আসে। বাবার হাত ধরে আসে ছেলেরা। এই
ছেলেটাও যেমন এসেছে। বাবার সঙ্গেই। কিন্তু এতে লজ্জার কী আছে?
আছে।
কারণ ছেলেটা পৌরবাজারে কিছু কিনতে আসেনি। এসেছে বিক্রি করতে। পৌরবাজারের
চলটা উঠে যাওয়া,পলেস্তারা খসে পড়া, এককালের সবুজ রঙের কিছু সাক্ষী-সবুদ
বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা মেইন গেটের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটি। সামনে
একটা আধখোলা বস্তায় ভুট্টা রাখা। ক্লাস এইটের পড়াশোনাকে সাময়িক বিরতি দিয়ে
শহুরে ছেলেটা গ্রামে গিয়ে থেকেছিল ছয় মাস। এই সময়ের অনভ্যস্ত চাষাবাদের
সাক্ষী এই ভুট্টা। ছেলেটা সেটাই বেচতে এসেছে। ছেলেটার পরিচয় এখন ভুট্টা
বিক্রেতার। মধ্যবিত্তের সামাজিক বিন্যাস ছেলেটা ততদিনে বুঝে গেছে বলেই
জানে, এই পরিচয়টায় বেশ লজ্জার ব্যাপার আছে। কেউ এই অবস্থায়, বিশেষ করে তার
ক্লাসের বন্ধুরা দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে। বন্ধুরা তো আর বুঝবে না, কোন
অবস্থায় পড়ে আজ তাকে ভুট্টা বেচতে হচ্ছে। এ নিয়ে হাসাহাসি হবে খুব।
ছেলেটাকে আবার আড়ালে গিয়ে কাঁদতে হবে। বয়সটা গুমোট কান্নার, দলা পাকিয়ে ওঠা
অভিমানের।
যখন খুব হতাশ হয়ে পড়ি, এই ছেলেটার কথা ভাবি। হুট করে
মধ্যবিত্ত থেকে গরিব, প্রায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া একটা পরিবারে বেড়ে ওঠা সেই
ছেলেটা একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। প্রাইভেট পড়ার বিলাসিতা ছিল না
বলে সায়েন্স বাদ দিয়ে মানবিক বিভাগ বেছে নেওয়া। বন্ধুদের ফিজিক্সের সূত্র
মুখস্ত করতে দেখার দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে রেখে সেই ছেলে এসএসসিতে বেশ ভালো
করল। এইচএসসিতেও। এর পর ভর্তি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন
বিভাগে। কিন্তু ছেলেটা যে কৃষক। নিজ হাতে সে বীজ বুনেছে, ছুঁয়ে দেখেছে কচি
শস্য পাতার বুকে জমা শিশির। সেই হাতেই সে বীজ বুনেছে শব্দের। রোপিত সেই
শব্দের বীজকে কখনো গল্পের ফসল হতে দেখেছে, কখনো কবিতা কিংবা নেহাতই অর্থহীন
কিছু পঙ্ক্তির। লেখালেখিটা ছেলেটার এতই ভালো লাগত, হুট করে একদিন সে হয়ে
গেল সাংবাদিক। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, সেই ছেলেটা, সেই ভুট্টা বিক্রেতা
লাজুক ছেলেটাই মাত্র ২৬ বছর বয়সে দেশের শীর্ষ দৈনিকের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদকও
হয়ে গেল একদিন। এত কম বয়সে, এত প্রতিকূলতার স্রোত ডিঙিয়ে শীর্ষ দৈনিকের এত
গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসা---এ তো রূপকথা! এ তো গর্বের। কিন্তু এ এমন এক
গল্প, যেটা লিখতে গিয়ে কেন জানি বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে আমার চোখ। পলকা
বাতাসেই উড়ে যাওয়া শরীর নিয়েও প্রচণ্ড ঝড়ে অবিচল থেকে করে যাওয়া ছেলেটার এই
লড়াই যে আমি একদম কাছে থেকে দেখেছি।
ছেলেটার আজ জন্মদিন। আমাকে
নিরন্তর অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলা সেই ভুট্টা বিক্রেতা ছেলেটাকে জন্ম দিনের
শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন রাজীব হাসান!
লুদমিলা
পুতিন, মেহেরিভানা আলিয়েভের এবং লুদমিলা ইয়ানুকোভিচ। ইনারা যথাক্রমে
রাশিয়া, আজারবাইজান এবং ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি। "বাংলদেশের ফার্স্ট লেডির
নাম কি?" কোন কুইজে এরম প্রশ্ন বোধকরি কখনোই আসে নি, অদুর ভবিষ্যতে আসবে
সেই সম্ভাবনাও অল্প। কেন মন্তব্য নিস্প্রয়োজন...
আমি
ভয়াবহ রকম 'নস্টালজিক'! যাহাই হোক না কেন...বাড়ি ছাড়বো না - সব সময় এরম
একটা ভাব নিয়ে চলি...!!! (খুব সম্ভবত এজন্যই, এখনও 'হটেনটটের' পর্যায়েই রয়ে
গেছি)। অবস্থা এমনই ভয়াবহ যে, ভিআইপি গ্যালারীতে বসে আইপিএল ফাইনাল দেখার
সুযোগ ঘটলেও মনে হয় সটান না বলে দেব!
বাড়ি ছেড়ে বেশীদিন দুরে থাকলে অদ্ভুত একটা কষ্ট অনুভব করি (ওটা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করতে পারবো না)।
নস্টালজিয়ার কারণ কী? এ থেকে পরিত্রাণের উপায়ই বা কী? ভাবছি এ নিয়ে বই লেখা শুরু করে দেব....
বেঞ্জামিন ডিজরেইলি বলেছেন, "কোন বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত হতে চাইলে তা নিয়ে বই লেখা শুরু করাই ভালো"